November 24, 2014

খাঁটি মধু চেনার উপায় !



খাঁটি মধু সম্পর্কে নিশ্চত হওয়ার সবচেয়ে ভাল উপায় যদি আপনি নিজে উপস্থিত থেকে মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করে আনতে পারেন। কিন্তু সেই সুযোগ ক'জনেরই বা আছে। তাই আসুন জেনে নিই কিছু সহজ পরীক্ষা যার মাধ্যমে আপনি নিশ্চিত হবেন মধুটি কি খাঁটি নাকি নকল।

১. এক টুকরা কাগজের মধ্যে কয়েক ফোঁটা মধু নিন। তারপর যেখানে পিঁপড়া আছে সেখানে রেখে দিন। পিঁপড়া যদি মধুর ধারে কাছে না ঘেসে তবে তা খাঁটি মধু। আর পিঁপড়া যদি তা পছন্দ করে তবে মধুতে ভেজাল আছে।

২. মধুকে ফ্র্রিজের মধ্যে রেখে দিন। খাঁটি মধু জমবে না। ভেজাল মধু পুরাপুরি না জমলেও জমাট তলানী পড়বে।
৩. এক গ্লাস পানি নিয়ে এর মধ্যে এক টেবিল চামচপরিমাণ মধু নিন। খুব ধীরে ধীরে গ্লাসটি শেক করুন। যদি মধু পানিতে পুরাপুরি দ্রবীভূত হয়ে যায় তবে তা ভেজাল মধু। আর মধু যদি পানিতে ছোট ছোট পিন্ডের আকারে থাকে তবে তা খাঁটি মধু।

৪. একটুকরা সাদা কাপড়ের উপর সামান্য পরিমাণ মধু নিন এবং এবং কিছুক্ষন পর কাপড়টি ধৌত করুন। ধোয়ার পর কাপড়টিতে যদি কোন দাগ থাকে তবে মধুতে ভেজাল আছে। আর যদি কোন দাগ না থাকে তবে মধু খাঁটি।


,

লুঙ্গি পরে চাঁদে যাওয়া কি সম্ভব?

আমরা বাঙ্গালী মানুষ, সংস্কৃতি আমাদের গায়ের চাঁদর। রক্তে মিশে রয়েছে সংস্কৃতির ধারা। অনেকগুলো সংস্কৃতির মাঝে লুঙ্গিও একটি বাঙ্গালী সংস্কৃতি, একটি বাঙ্গালীমনার পরিচায়ক। সে বাঙ্গালী বিজ্ঞান নিয়ে কল্পনা-জল্পনা করলে তো তাঁর সংস্কৃতিমনা ভাব থাকতেই পারে। লুঙ্গি পরে চাঁদে যাবার ইচ্ছা হতেই পারে। চাঁদে গিয়ে ফলমূল শাক-সবজি খেতেই পারে! আরে, ফলমূল শাকসবজি মনে হয়ে না ওখানে খাওয়া সম্ভব, বড়জোর ছত্রাক ব্যাকটেরিয়া খেতে পারবে। তবে তারা খাবার হিসেবে ব্যাঙের ছাতা নামক ছত্রাকই খাক আর যাই খাক সেটা পরে দেখা যাবে। এবার দেখা যাক লুঙ্গি পরে চাঁদে যাওয়া যাবে কিনা? বা আদৌ সম্ভব কিনা?! 
না! লুঙ্গি পরে চাঁদে যাওয়া সম্ভব নয়। যদি কেও লুঙ্গি পরে চাঁদে যেতে চায় তো যেতে পারবে কিন্তু সে জানে ফিরে আসতে পারবে না। শরীরের হাড়গোড়ের মাঝে যদি প্রাণ থাকা সম্ভব হত তবে সে প্রাণসমেত যান নিয়ে ফিরে আসতে পারত। শরীর নিয়ে আর ফিরে আসা লাগবে না। 

প্রত্যেকটা মানুষের শরীরই অসংখ্য কোষ নিয়ে গঠিত। সেই প্রতিটি কোষে আছে কোষ গহ্বর। প্রত্যেকটা কোষের কোষ গহ্বর প্রচণ্ড চাপে বাইরের দিকে চাপ দেয়। এই চাপের ফলেই আমরা পৃথিবীতে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে পারি। 
আমরা ডুবে আছি বায়ুর সমুদ্রে। আমাদের মাথার উপর মাইলের পর মাইল বায়ুতে ভর্তি। বাতাসের তো ওজন আছে, সে ওজন দারুণভাবে চাপ দিচ্ছে আমাদের সকলের উপর। এক সের দুই সের ওজনের চাপ নয়, মনের পর মন টনের পর টন সে চাপ! 
এত যে চাপ দিচ্ছে তারপরও আমরা সে চাপ নিয়ে চলছি কি করে? চলছি সে কোষ গহ্বরের সাহায্যে। কোষ গহ্বরের বাইরের দিকের চাপ আর বায়ুর ভেতরের দিকের চাপ কাটাকাটি হয়ে যায়। তাতেই আরাম আয়েশে কেটে যায় আমাদের জীবন। 

চাঁদে বায়ুমণ্ডল নেই, এখন কেউ যদি চাঁদে যায় তবে সেখানে বায়ুমণ্ডল থাকুক না থাকুক কোষের সাথে সাথে কোষ গহ্বরের চাপ তো আছেই! সেই ভেতরের চাপে কোষগুলো সব বাইরের দিকে ছিটকে বেড়িয়ে আসবে। মারা যাওয়া আবশ্যক। আর দেহের রক্তনালীতে যে রক্তচাপ দেয় তাতে মুহূর্তেই ছিঁড়ে যাবে সে নালী। মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে কিছু বুঝার আগেই মারা পড়বে! 

আর এজন্যই মহাকাশচারীদের যাত্রার সময় দেখা যায় বিশেষ পোশাক পরতে। বিশেষ এই শক্ত পোশাকে চলাফেরা করা খুব কষ্টকর। একদমই আরামদায়ক নয়। কিন্তু তারপরও পরতে হয় এই পোশাক। এই স্পেসশুটের ভেতরে কৃত্রিম ভাবে চাপ বজায় রাখা হয়। 
@একবার যদি কেউ বিশেষ পোশাকের নিচের অংশটার বদলে লুঙ্গি পরে যায় তবে সে ক্ষেত্রেও চাপ বজায় রাখা সম্ভব নয়। লুঙ্গি পরে সুস্থভাবে সেখানে যাওয়া সম্ভব নয়। বিপদ আসন্ন যেন! 
আর চাঁদে বায়ুমণ্ডল নেই ফলে সাধারণ পোশাক পরে গেলে নানা ক্ষতিকর বিকিরণে দেহের বারোটা বাজতে পারে। আবার অত্যাধিক ঠাণ্ডা কিংবা গরম থেকে বাঁচায় স্পেস শুট। সেখানে ভিতরে কৃত্রিম ভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পোশাকে এমনকি পশ্রাব করার জন্যও ভাল সুবিধা রাখা থাকে। লুঙ্গি পরলে যেটা পাওয়া যায় না। 
তবে হ্যাঁ, কেও যদি মূল স্পেসশুটের উপরে অতিরিক্ত হিসেবে লুঙ্গি পরে তবে তাতে সামান্য সংখ্যক অসুবিধা ছাড়া আর কিছু হবার কথা নয়। সেভাবে করলে করা যেতেও পারে। 
আসলে এই সবটাই আমার উর্বর মস্তিষ্কের অনুর্বর কল্পনা। লুঙ্গি পরে ওখানে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। মাথার ঘাম মাথায় রেখেই এটা লেখা হয়েছে। 



 
Tricks and Tips