January 07, 2015

নাকের ছিদ্র দুটি থাকে কেন

দুটি চোখ আমাদের খুবই প্রয়োজন ত্রিমাত্রিক স্থানের এবং দূরত্বের ধারনা পাওয়ার জন্য। দুটি কানও প্রয়োজন শব্দের উৎস সম্বন্ধে ধারনা পাওয়ার জন্য কিন্তু নাকের দুটি ছিদ্রের প্রয়োজন কি? না, দু'টি ছিদ্রের মাধ্যমে গন্ধের উৎস সম্বন্ধে জানার বেশী সুযোগ নেই। কারণ গন্ধ তৈরি হয় কোন বস্তুর অণু যখন ঘ্রাণেন্দ্রিয়ের সংস্পর্শে আসে তখন কিছু রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে যার ফলে মস্তিষ্কে সংকেত প্রেরিত হয় এবং আমরা কোন একটি বস্তু নাকে প্রবেশ করার অনুভূতি পাই। তাই এই অণুগুলোর উৎস কী ঘ্রাণেন্দ্রিয়র পক্ষে তা নির্ধারণ করা দুষ্কর। তাই একটি ছিদ্র হলেই কি যথেষ্ট ছিলো না? আমাদের শরীরের অনেক ধরনের ছিদ্রই কিন্তু একটি করে!আসলে, যথেষ্ট ছিলো না। বিজ্ঞানীরা দু'টি নাসারন্ধ্রের প্রয়োজনীয়তা খুঁজে বের করেছেন। লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবেন, আপনার নাকের দুটি ছিদ্র সবসময় একই পরিমাণ খোলা থাকে না। একটি দিয়ে খুব দ্রুত বায়ু প্রবেশ করতে পারে আর অপরটি দিয়ে বেশ অল্প পরিমাণ বায়ু প্রবেশ করে। নাকের উপরের দিকের একটি হাড় ডানে বা বামে সরে গিয়ে এই ফাঁক নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে দুটি ছিদ্র দিয়ে প্রবেশকৃত অণুর গতির উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তারতম্য ঘটে এবং এই বিষয়টিই বিভিন্ন ধরনের বস্তুর ঘ্রাণ অনুভবের জন্য জরুরি। কিছু বস্তুর অণু নাকের ঘ্রাণেন্দ্রিয় প্রান্তগুলোর সাথে বেশ দ্রুত মিথস্ক্রিয়া দেখায় আবার কিছু বস্তু তা করে খুব ধীর গতিতে। অর্থাৎ কিছু বস্তু খুব দ্রুত ঘ্রাণের অনুভূতি তৈরি করে, আর কিছু বস্তুর অনুভূতি তৈরি হয় ধীরে ধীরে। তাই নাকের দুটি ছিদ্রই যদি একই পরিমাণ খোলা থাকত তাহলে সবরকম বস্তুর অণুই একই হারে ফুসফুসে ঢুকে যেত এবং এতে ধীরে অনুভূতি তৈরি করা বস্তুগুলো ঘ্রাণেন্দ্রিয়র সাথে ক্রিয়া করার সুযোগ পেত না এবং তার ফলে আমরা সেই বস্তুর ঘ্রাণ অনুভব করতে পারতাম না। এই কারণে দুটি ছিদ্র প্রয়োজন যার একটির মাধ্যমে বাতাস ফুসফুসে খুব দ্রুত প্রবেশের মাধ্যমে শ্বসনক্রিয়া স্বাভাবিক রাখবে আর অপরটি গতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ঘ্রাণের যথাযথ অনুভূতি তৈরি করবে।

-copied form: zero 2 infinity 

ভিটামিন এ'র অভাবে কেন 'রাতকানা' হয়?


ভিটামিন এ'র অভাবে কেন শুধু রাতেই দেখতে সমস্যা হয়?

আমাদের দর্শনানুভূতির জন্য চোখে দুই ধরনের সেন্সর এবং তার জন্য দুই ধরনের কোষ থাকে। এরা হচ্ছে 'কোন' ও 'রড'। আলো যখন তীব্র থাকে তখন কোন কোষগুলো সক্রিয় থাকে। কোন কোষগুলো তিন ধরনের রং এর জন্য তিন ধরনের রঞ্জক ধারণ করে (তাই তিন ধরনের হয়, চিত্র দেখুন) এবং এদের উপর পতিত বর্ণের রশ্মির কম্বিনেশনে আমরা একটি বস্তু দেখি। কিন্তু মানুষ যে শুধু উজ্জ্বল আলোতেই দেখে তা নয়। বরং অন্ধকারেও দেখতে পায়। একটি ঘর ঘুটঘুটে অন্ধকার করে ফেললে শুরুতে আমরা কিছুই দেখি না। কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন কয়েক মিনিটের মধ্যে অন্ধকার ঘরের জিনিসপত্র দৃশ্যমান হতে শুরু করে। এর কারণ হচ্ছে, আলোর অনুপস্থিতিতে (খুব ক্ষীণ উপস্থিতিতে) কোণ কোষ বর্ণ শনাক্ত করতে পারে না এবং তখন রডকোষ সক্রিয় হয়ে ওঠে। রড কোষ আলাদাভাবে কোনো রং শনাক্ত করে না তবে একটি সাদাকালো দৃশ্যের অনুভূতি তৈরি করে। এই সাদাকালো শনাক্তের জন্য রড কোষে রডোপ্সিন নামক পদার্থ থাকে যার কার্যকারিতা নির্ভর করে ভিটামিন-এ এর উপর। এই কারণে ভিটামিন এ এর অভাব হলে শুধু কম আলোতেই দেখতে সমস্যা হয় যখন রড কোষগুলোই বেশীমাত্রায় কার্যকর থাকার কথা।

-Copied from: zero 2 infinity 

 
Tricks and Tips