November 30, 2014

,

কীভাবে কাজ করে বন্দুকের সাইলেন্সার

আমাদের ফেসবুক পেজে একজন পাঠক জানতে চেয়েছেন- “বন্দুকের সাইলেন্সার কীভাবে কাজ করে?”। বেশ সুন্দর একটি প্রশ্ন। আর এর উত্তরও বেশ সহজ এবং মজাদার। 
আর উত্তরটির কি-ওয়ার্ড হলো- ‘বায়ু চাপ’...

প্রথমে চিন্তা করা যাক একটি বেলুনের কথা। ধরুন, আপনার এক হাতে একটি বেলুন আছে এবং অপর হাতে আছে একটি আলপিন। মাথায় হয়তো একটু দুষ্টু বুদ্ধি চাপলো। তাই সুন্দর করে বেলুনটিকে আলপিনের সাথে সাক্ষাত করিয়ে দিলেন। এই তো! সব শেষ; BOOMMMMM…
কিন্তু এই আপনিই যদি বেলুনের পেছনে যেখানে গিঁট দেয়া আছে তা একটু খুলে দেন, তাহলে ভেতরের পুরো বাতাস ধীরে ধীরে বের হয়ে যাবে। ফলে কোনো শব্দই হবে না। আর ঠিক এমন একটি কৌশলই কাজে লাগানো হয়ে থাকে বন্দুকে ব্যবহৃত সাইলেন্সার-এর বেলায়।


বন্দুক থেকে বুলেট বের হবার প্রক্রিয়াটিকে কয়েকটি ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে নেয়া যাক। 
গুলি করার জন্য প্রথমেই বুলেটের পেছনের গান পাউডার-এ অগ্নিসংযোগ করা হয়। এই গান পাউডার তখন বেশ উচ্চ চাপযুক্ত গরম বায়ুর উৎপত্তি ঘটায়। উচ্চ চাপযুক্ত এই বায়ু পরে বুলেটটিকে দ্রুতবেগে ব্যারেলের মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য করে। এই বুলেটটিই যখন বন্দুকের ব্যারেল থেকে বের হচ্ছে, তখন ব্যাপারটি অনেকটা একটা বোতলের ছিপি খোলার মতো হয়ে যায় (শ্যাম্পেনের বোতল দিয়ে চিন্তা করতে পারেন, টম এন্ড জেরীতে যেমন দেখা যায় আর কি)। 
তবে বুলেটটি যদি শুধু বেরিয়ে আসতো তাহলে আর চিন্তার কিছু ছিলো না। কিন্তু বুলেটটির পেছনে থাকে অত্যন্ত উচ্চমাত্রার এক বায়ুচাপ- প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে প্রায় ৩,০০০ পাউন্ড এর মতো। ফলে বন্দুকের এই ‘বোতল খোলা’ অর্থাৎ বুলেট বের হবার সময় এত জোরে শব্দ হয়ে থাকে।



এতক্ষণ তো জানা গেলো শব্দ হবার কারণ সম্বন্ধে। এবার চলুন জেনে নেয়া যাক কীভাবে এই শব্দ বন্ধ করা যায় সে সম্পর্কে অর্থাৎ আমাদের আলোচ্য ‘সাইলেন্সার’ কীভাবে কাজ করে তা নিয়ে। 
সাইলেন্সারটিকে লাগানো হয়ে থাকে ব্যারেলের শেষ প্রান্তে। আর আয়তনেও এটি ব্যারেল থেকে বেশ বড়, প্রায় ২০ থেকে ৩০ গুণের মতো। একটু কি জট খুলতে পারছেন এবার?
আমরা জেনেছি, গান পাউডারে অগ্নিসংযোগের ফলে বেশ উচ্চ চাপের বায়ুর উৎপত্তি হয়। কিন্তু এই উচ্চ চাপযুক্ত বায়ুই সাইলেন্সার-এ এসে প্রসারণের জন্য অনেক জায়গা পেয়ে যায়। আর বায়ুর প্রসারণের ফলে তার চাপও উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। ফলে এবার যখন বুলেটটি সাইলেন্সার দিয়ে বের হচ্ছে (ব্যারেল না কিন্তু) তখন এর পেছনে বায়ুচাপ থাকছে বেশ কম, প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে মাত্র ৬০ পাউন্ডের মতো। ফলে গুলি করার শব্দও ‘একেবারে নাই হয়ে যায়’ বললেই চলে। আর এভাবেই কাজ করে থাকেন আমাদের ‘জনাব সাইলেন্সার’...

বিভিন্ন ধরণের অস্ত্রের কাজ করার এমন সব কলাকৌশল সম্পর্কে আগ্রহ মেটানোর জন্য আমাদের ‘জিরো টু ইনফিনিটি’ মাসিক ম্যাগাজিনে জানুয়ারি ’১৪ সংখ্যা থেকে খোলা হয়েছে ‘অস্ত্রবিজ্ঞান’ নামক বিভাগটি। আগ্রহী পাঠকেরা ইচ্ছে করলে সেখান থেকে ঢুঁ মেরে আসতেও পারেন। ধন্যবাদ...

তথ্যসুত্রঃ www. howstuffworks .com

November 29, 2014

স্মার্ট রিং !!

প্রজুক্তির এই স্মার্ট জগতে প্রতিযোগিতা এখন শুধুই স্মার্টনেস এর। আস্তে আস্তে সব কিছুই স্মার্ট টেখনলজিতে পরিণত হয়ে যাবে। স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচ আরোকত কি। এবার স্মার্ট টেখনলজিতে  পরিণত হচ্ছে হাতের রিংও। এই স্মার্টরিং স্মার্টওয়াচ এর চেয়ে একটু বেশী স্মার্ট। ধারনা করা হচ্ছে এই রিং স্মার্টওয়াচ এর চয়ে অধিক আকর্ষণীও।

কি ফিচার আছে এই স্মার্ট রিং এ ?
এই স্মার্ট রিং সব সময় আপনার সকল আপডেট দিয়ে থাকবে। যেমন ই-মাইল, আপনার সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এর আপডেট , আপনার মোবাইল ফোনের কল এলার্ট বা এই মুহূর্তে  কাকে কল কোরতে হবে ইত্যাদি সকল বিষয় গুলো মনে করিয়ে দিবে। স্মার্ট রিং টির অন্যতম একটি আকর্ষণীয় ফিচার GPS, এই GPS বলে দিবে আপনার বর্তমান আবস্থান। ফলে আপনার সবসময় মোবাইল ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না, বিনিময় হাতের স্মার্টরিং এর দিকে তাকালেই হবে। এটার আরো কিছু চমৎকার ফিচার হচ্ছে এটি ওয়াটার প্রুভ এবং কোন ফোনকল, ম্যাসেজ বা নোটিফিকেশন এলে বাইব্রেট করে সংকেত দিবে। 

বেশ কিছু কোম্পানি এই স্মার্টরিং বাজারে আনছে। তার মধ্যে MOTO , APPLE এমন কি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক TWITTER এই স্মার্ট রিং টি প্রাথমিক ভাবে বাজারে রিলিজ করেছে।









November 28, 2014

, , , , , , , ,

রোবট হাতি

গ্রেট কৃত্রিম হাতি, এটি একটি রোবট.
12 মিটার উচ্চ এবং 8 মিটার চওড়া পরিমাপ, পুনর্ব্যবহৃত উপকরণ 45 টন থেকে. এটা 49 যাত্রী বহন করতে পারে!


November 24, 2014

খাঁটি মধু চেনার উপায় !



খাঁটি মধু সম্পর্কে নিশ্চত হওয়ার সবচেয়ে ভাল উপায় যদি আপনি নিজে উপস্থিত থেকে মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করে আনতে পারেন। কিন্তু সেই সুযোগ ক'জনেরই বা আছে। তাই আসুন জেনে নিই কিছু সহজ পরীক্ষা যার মাধ্যমে আপনি নিশ্চিত হবেন মধুটি কি খাঁটি নাকি নকল।

১. এক টুকরা কাগজের মধ্যে কয়েক ফোঁটা মধু নিন। তারপর যেখানে পিঁপড়া আছে সেখানে রেখে দিন। পিঁপড়া যদি মধুর ধারে কাছে না ঘেসে তবে তা খাঁটি মধু। আর পিঁপড়া যদি তা পছন্দ করে তবে মধুতে ভেজাল আছে।

২. মধুকে ফ্র্রিজের মধ্যে রেখে দিন। খাঁটি মধু জমবে না। ভেজাল মধু পুরাপুরি না জমলেও জমাট তলানী পড়বে।
৩. এক গ্লাস পানি নিয়ে এর মধ্যে এক টেবিল চামচপরিমাণ মধু নিন। খুব ধীরে ধীরে গ্লাসটি শেক করুন। যদি মধু পানিতে পুরাপুরি দ্রবীভূত হয়ে যায় তবে তা ভেজাল মধু। আর মধু যদি পানিতে ছোট ছোট পিন্ডের আকারে থাকে তবে তা খাঁটি মধু।

৪. একটুকরা সাদা কাপড়ের উপর সামান্য পরিমাণ মধু নিন এবং এবং কিছুক্ষন পর কাপড়টি ধৌত করুন। ধোয়ার পর কাপড়টিতে যদি কোন দাগ থাকে তবে মধুতে ভেজাল আছে। আর যদি কোন দাগ না থাকে তবে মধু খাঁটি।


,

লুঙ্গি পরে চাঁদে যাওয়া কি সম্ভব?

আমরা বাঙ্গালী মানুষ, সংস্কৃতি আমাদের গায়ের চাঁদর। রক্তে মিশে রয়েছে সংস্কৃতির ধারা। অনেকগুলো সংস্কৃতির মাঝে লুঙ্গিও একটি বাঙ্গালী সংস্কৃতি, একটি বাঙ্গালীমনার পরিচায়ক। সে বাঙ্গালী বিজ্ঞান নিয়ে কল্পনা-জল্পনা করলে তো তাঁর সংস্কৃতিমনা ভাব থাকতেই পারে। লুঙ্গি পরে চাঁদে যাবার ইচ্ছা হতেই পারে। চাঁদে গিয়ে ফলমূল শাক-সবজি খেতেই পারে! আরে, ফলমূল শাকসবজি মনে হয়ে না ওখানে খাওয়া সম্ভব, বড়জোর ছত্রাক ব্যাকটেরিয়া খেতে পারবে। তবে তারা খাবার হিসেবে ব্যাঙের ছাতা নামক ছত্রাকই খাক আর যাই খাক সেটা পরে দেখা যাবে। এবার দেখা যাক লুঙ্গি পরে চাঁদে যাওয়া যাবে কিনা? বা আদৌ সম্ভব কিনা?! 
না! লুঙ্গি পরে চাঁদে যাওয়া সম্ভব নয়। যদি কেও লুঙ্গি পরে চাঁদে যেতে চায় তো যেতে পারবে কিন্তু সে জানে ফিরে আসতে পারবে না। শরীরের হাড়গোড়ের মাঝে যদি প্রাণ থাকা সম্ভব হত তবে সে প্রাণসমেত যান নিয়ে ফিরে আসতে পারত। শরীর নিয়ে আর ফিরে আসা লাগবে না। 

প্রত্যেকটা মানুষের শরীরই অসংখ্য কোষ নিয়ে গঠিত। সেই প্রতিটি কোষে আছে কোষ গহ্বর। প্রত্যেকটা কোষের কোষ গহ্বর প্রচণ্ড চাপে বাইরের দিকে চাপ দেয়। এই চাপের ফলেই আমরা পৃথিবীতে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে পারি। 
আমরা ডুবে আছি বায়ুর সমুদ্রে। আমাদের মাথার উপর মাইলের পর মাইল বায়ুতে ভর্তি। বাতাসের তো ওজন আছে, সে ওজন দারুণভাবে চাপ দিচ্ছে আমাদের সকলের উপর। এক সের দুই সের ওজনের চাপ নয়, মনের পর মন টনের পর টন সে চাপ! 
এত যে চাপ দিচ্ছে তারপরও আমরা সে চাপ নিয়ে চলছি কি করে? চলছি সে কোষ গহ্বরের সাহায্যে। কোষ গহ্বরের বাইরের দিকের চাপ আর বায়ুর ভেতরের দিকের চাপ কাটাকাটি হয়ে যায়। তাতেই আরাম আয়েশে কেটে যায় আমাদের জীবন। 

চাঁদে বায়ুমণ্ডল নেই, এখন কেউ যদি চাঁদে যায় তবে সেখানে বায়ুমণ্ডল থাকুক না থাকুক কোষের সাথে সাথে কোষ গহ্বরের চাপ তো আছেই! সেই ভেতরের চাপে কোষগুলো সব বাইরের দিকে ছিটকে বেড়িয়ে আসবে। মারা যাওয়া আবশ্যক। আর দেহের রক্তনালীতে যে রক্তচাপ দেয় তাতে মুহূর্তেই ছিঁড়ে যাবে সে নালী। মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে কিছু বুঝার আগেই মারা পড়বে! 

আর এজন্যই মহাকাশচারীদের যাত্রার সময় দেখা যায় বিশেষ পোশাক পরতে। বিশেষ এই শক্ত পোশাকে চলাফেরা করা খুব কষ্টকর। একদমই আরামদায়ক নয়। কিন্তু তারপরও পরতে হয় এই পোশাক। এই স্পেসশুটের ভেতরে কৃত্রিম ভাবে চাপ বজায় রাখা হয়। 
@একবার যদি কেউ বিশেষ পোশাকের নিচের অংশটার বদলে লুঙ্গি পরে যায় তবে সে ক্ষেত্রেও চাপ বজায় রাখা সম্ভব নয়। লুঙ্গি পরে সুস্থভাবে সেখানে যাওয়া সম্ভব নয়। বিপদ আসন্ন যেন! 
আর চাঁদে বায়ুমণ্ডল নেই ফলে সাধারণ পোশাক পরে গেলে নানা ক্ষতিকর বিকিরণে দেহের বারোটা বাজতে পারে। আবার অত্যাধিক ঠাণ্ডা কিংবা গরম থেকে বাঁচায় স্পেস শুট। সেখানে ভিতরে কৃত্রিম ভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পোশাকে এমনকি পশ্রাব করার জন্যও ভাল সুবিধা রাখা থাকে। লুঙ্গি পরলে যেটা পাওয়া যায় না। 
তবে হ্যাঁ, কেও যদি মূল স্পেসশুটের উপরে অতিরিক্ত হিসেবে লুঙ্গি পরে তবে তাতে সামান্য সংখ্যক অসুবিধা ছাড়া আর কিছু হবার কথা নয়। সেভাবে করলে করা যেতেও পারে। 
আসলে এই সবটাই আমার উর্বর মস্তিষ্কের অনুর্বর কল্পনা। লুঙ্গি পরে ওখানে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। মাথার ঘাম মাথায় রেখেই এটা লেখা হয়েছে। 



November 23, 2014

নেটওয়ার্ক ছাড়া সহজে ইন্টারনেট ব্যবহার করুন

সমস্যা সমাধান ! আগে টেস্ট করে দেখুন তারপর বলবেন। তার আগে আপনাকে কিছু তথ্য বলে  রাখি। বনে, রনে , জলে জঙ্গলে লো কানেকটিভিট জায়গায় আপনি রয়েছেন, ইন্টারেনেট কোনও ভাবেই ব্যবহার করতে পারচ্ছেন না। কিন্তু আপনার বস অথবা অন্য কাউকে  কে এখনি ইমেল করতে হবে। এমন বিপদে পড়লে কী করবেন? অবশ্যই স্মরণ করুন বি-বাউন্ড (Be-Bound) অ্যাপকে।
বি-বাউন্ড অ্যাপের নতুনত্ব হল লো ব্যান্ডউইথ জায়াগায় আপনি এই অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। Wi-Fi, Edge, 3G নেটওয়ার্কের কোন কিছুর দরকার নেই। আপনি আপনার স্মার্টফোনে ডাউনলোড করুন বি-বাউন্ড। অ্যাপ লোড করার পরই ইমেল, আবহাওয়া রিপোর্ট, নিউজ, স্টক সবকিছু আপনার হাতের মুঠোয়। এই অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন সম্পূর্ণ ফ্রিতে। ইন্টারনেটের অবশ্যই  সাশ্রয়ও হবে।




চাকাযুক্ত রোবটের অক্ষমতাকে দূর করলো চার পা যুক্ত চিতা রোবট

আমরা যেসব রোবট দেখি তারা অধিক অংশ চাকার মাধ্যমে চলে।  একটি মসৃণ পৃষ্ঠের উপর একটি চাকাযুক্ত রোবট খুব চমৎকারভাবে চলতে পারে। কিন্তু আমরা যদি কোনো রোবটকে অমসৃণ পৃষ্ঠে চালাতে চাই তাহলে চাকাযুক্ত কোনো রোবট কি ঠিকভাবে কাজ করবে? অথবা চলার পথে রোবটটির সামনে যদি কোনো দুই ফুট উচ্চতার দেয়াল বা যেকোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকে তাহলে কীভাবে কোনো রোবট সেটি ডিঙিয়ে যাবে?

এমন ধরনের ভাবনা  থেকেই MIT-র একদল গবেষক মিলে তৈরী করলেন চিতা রোবট (Robotic Cheetah)। প্রকৃতির সবচাইতে দ্রুতগতিসম্পন্ন প্রাণী চিতা, তেমনিভাবে আবিষ্কৃত এই চিতা রোবটও অন্য চার পায়ে চলা রোবটগুলোর ভিতর সবচেয়ে দ্রুতগামী। এই রোবটের আকার আকৃতি ও সাজসজ্জাও অনেকটাই সত্যিকারের চিতার মত!

MIT-এর গবেষকগণ তাদের আবিষ্কৃত রোবট চিতার সাথে
গবেষকগণ এই রোবটটি তৈরী করতে গিয়ে প্রথমে কুকুর ও বিড়ালের চলাচল পর্যবেক্ষণ করেন। তারা লক্ষ্য করেন কুকুর বা বিড়ালের চলাচলের সময় এদের গতিপথে যদি কোনো প্রতিবন্ধকতা পড়ে তাহলে এরা কীভাবে ঐ প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে এবং এই প্রতিবন্ধকতা অতিক্রমের সময়টুকুতে এদের দেহের কোন কোন গাঠনিক পরিবর্তনগুলি হয়। এদের দেহের এসব পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করে গবেষকগণ প্রতিবন্ধকতা অতিক্রমের একটি অ্যালগরিদম তৈরী করেন। রোবটটি যখন লাফ দিবে তখন সামনের পা এবং পেছনের পায়ে কী পরিমাণ বল প্রয়োগ করতে হবে, রোবটটি কতটা সময় মাটিতে থাকবে এবং কতটা সময় বাতাসে ভাসবে এসব বিষয়গুলো অ্যালগরিদমের মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়েছে এবং এটি গণনা করতে জীববিজ্ঞান ও বলবিদ্যার সূত্রগুলো একসাথে ব্যবহৃত হয়েছে। 

চিতা রোবটির উচ্চতা প্রায় ৩ ফুট এবং দৈর্ঘ্যও ৩ ফুট। এর গতি ঘন্টায় প্রায় ১০ কিলোমিটার যা অন্যান্য চারপেয়ে রোবট থেকে প্রায় ২০ গুণ দ্রুত। এটি প্রতি পদক্ষেপে ১ ফুটের বেশী দূরত্ব অতিক্রম করতে এবং ১ ফুট উচ্চতার যেকোনো প্রতিবন্ধক সহজেই অতিক্রম করতে পারে। গবেষকরা অবশ্য দাবী করেছেন রোবটটি এর ক্ষমতার মাত্র ৪০ ভাগ ব্যবহার করে, তাই একে আরও উন্নত করা সম্ভব। এর স্থায়ীত্ব বৃদ্ধির জন্য গবেষকরা একে ধীরে ধীরে উন্নত করার চেষ্টা করছেন। এর ক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার করা হলে রোবটটিকে ঘন্টায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন করা সম্ভব। 

গবেষকদের মধ্যে একজন বলেন এই রোবটটি অন্যান্য যে কোনো রোবটের চেয়ে অনেক হালকা এবং শব্দ উৎপন্ন হওয়ার পরিমাণও অনেক কম। এতে মাত্র একটি ইলেট্রিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে এবং বাইরে থেকে কোনো শক্তি সংগ্রহ বা যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

এই রোবট আবিষ্কারের মাধ্যমে যেকোনো জায়গায় রোবট ব্যবহারের সম্ভাবনা আরও উন্মুক্ত হলো এটি সন্দেহাতীতভাবেই বলা যায়। সায়েন্স ফিকশনের ভবিষ্যতের পৃথিবীতে মানুষের দৈনন্দিন কাজের সহচর হিসেবে আমরা রোবট ব্যবহারের যে প্রাচুর্য দেখতে পাই সেই যুগে আমরা হয়তো খুব দ্রুতই প্রবেশ করতে যাচ্ছি!



 
Tricks and Tips