অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, পাবনায় এখন ১০ টাকা কেজি দরে দুধ বিক্রি হচ্ছে। পানির চেয়ে কম দরে দুধ বিক্রি হলেও তাও আবার কেনার মানুষ নেই। ফলে দেশের প্রধান দুগ্ধ উৎপাদনকারী এলাকা বলে পরিচিত পাবনা-সিরাজগঞ্জের দুগ্ধ খামারিরা উৎপাদিত দুধ নিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন।
খামারিদের অভিযোগ হরতাল অবরোধের কারণে স্থানীয় দুগ্ধ সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দুধ সংগ্রহ ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই খামারিদের উৎপাদিত দুধের একটা বড় অংশ অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে। স্থানীয় দুগ্ধ সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুধ বিক্রি করতে না পেরে খামারিরা স্থানীয় বাজারে পানির চেয়ে কম দরে উৎপাদিত দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে শুধু খামারিরাই নয় স্থানীয় দুধ ব্যবসায়ীরাও চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তবে স্থানীয় দুগ্ধ সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের দাবি, তাঁরা দুধ সংগ্রহ কমাননি। অবরোধের কারণে তাদের গাড়ীগুলো চলাচল করতে না পারায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিন জানা যায়, পাবনার বেড়া, সাঁথিয়া, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া এবং সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুর ও উল্লাপাড়া উপজেলা নিয়ে গড়ে ওঠা দেশের প্রধান দুগ্ধ উৎপাদনকারী অঞ্চলের লক্ষাধিক খামারির আয়ের একমাত্র উৎস তাঁদের খামারে উৎপাদিত দুধ। প্রচুর দুধ উৎপাদিত হওয়ায় এ অঞ্চল থেকে মিল্ক ভিটা, আড়ং দুধ, প্রাণ, ফার্মফ্রেস, অ্যামোমিল্ক, আফতাব, রংপুর ডেইরিসহ কয়েকটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান তরল দুধ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করে সারা দেশে খোলা বাজারে বিক্রি করে থাকে। ব্যাপক চাহিদার কারণে সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আগে রীতিমত প্রতিযোগিতামূলকভাবে খামারিদের কাছ দুধ সংগ্রহ করত। কিন্তু গত ৩১ ডিসেম্বর ও ১ জানুয়ারি হরতাল এবং ৪ জানুয়ারি থেকে টানা অবরোধের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো দুধ সংগ্রহ বন্ধ করে দিয়েছে।
গত রোববার সকালে প্রাণ দুধের বেড়া সংগ্রহ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, খামারি ও দুধ ব্যবসায়ীরা ক্যান (৪০ লিটারের দুধের পাত্র) বোঝাই দুধ নিয়ে অপেক্ষা করছেন। তাঁরা জানান, কোনোরকম ঘোষণা ছাড়াই তারা দুই সপ্তাহ ধরে দুধ নেওয়া বন্ধ রেখেছে। প্রায় ৪ মণ দুধ নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকা সাঁথিয়ার সোনাতলা গ্রামের নিত্যগোপাল ঘোষ জানান, শনিবারে ১৬ জানুয়ারি তিনি এই কেন্দ্রে দুধ দিতে না পেরে বাজারে নিয়ে ১০ থেকে ১২ টাকা লিটার দরে দুধ বিক্রি করেছেন। বাকি দুধ থেকে শুধু ক্রীম তুলে নিয়ে সেই দুধ ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, পৌণে এক মাসে আমার প্রায় ৩০ হাজার টাকা লস। এরম (এমন) চলতি থাকলি আমাগরে ঘরবাড়ি বেইচ্যা পথে বসা লাগবি।’
প্রাণ দুধের বেড়া সংগ্রহ ও শীতলীকরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই কেন্দ্রে প্রতিদিন গড়ে আমরা ৫০ হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ কের থাকি। কিন্তু অবরোধের কারণে গাড়ী চলাচল করতে না পারায় তা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া মিল্ক ভিটাও দুধ কেনা কমিয়ে দেওয়ায় সেখানকার অনেক দুধ আমাদের এখানে আসছে বলে এমন অবস্থা দেখা দিয়েছে।’ আড়ং দুধের বেড়া সংগ্রহ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় সেখানে দুধ সংগ্রহ বন্ধ রয়েছে। আড়ং দুধের এলাকা ব্যবস্থাপক অরবিন্দ রুদ্র বলেন, ‘যানবাহনজনিত সমস্যার কারণে আমরা বেড়া কেন্দ্রে দুধ সংগ্রহ বন্ধ রেখেছি।
গত রোববার সাঁিথয়ার সোনাতলা গ্রামে গিয়ে খামারিদের হাহুতাশ লক্ষ্য করা গেছে। খামারিরা জানান, এই এলাকার খামারিরা সমিতির মাধ্যমে সরকারি দুগ্ধ সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটায় দুধ সরবরাহ করে থাকেন। কিন্তু মিল্ক ভিটা প্রতি সপ্তাহেই একাধিক দিন দুধ সংগ্রহ বন্ধ রাখছে।
চরাচিথুলিয়া পূর্বপাড়া প্রাথমিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপক মোবারক হোসেন বলেন, ‘মিল্ক ভিটা গত ৭ দিন ধরে মিল্কভিটা দুধ নেয় নাই। ফলে বাজারে সেই দুধ আমরা ১০ থেকে ১২ টাকা লিটার দামে বেচতে বাধ্য হইছি।
মিল্ক ভিটার উপ-মহাব্যবস্থাপক ড. খন্দকার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দুধ সংগ্রহ বন্ধ রাখার বিষয়টি ঠিক নয়। গত কয়েকদিন বিভিন্ন কারণে দুধ সংগ্রহ বন্ধ রেখেছিলাম। এখন সেই অবস্থা উত্তরণের চেষ্টা চলছে।
খামারিদের অভিযোগ হরতাল অবরোধের কারণে স্থানীয় দুগ্ধ সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দুধ সংগ্রহ ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই খামারিদের উৎপাদিত দুধের একটা বড় অংশ অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে। স্থানীয় দুগ্ধ সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুধ বিক্রি করতে না পেরে খামারিরা স্থানীয় বাজারে পানির চেয়ে কম দরে উৎপাদিত দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে শুধু খামারিরাই নয় স্থানীয় দুধ ব্যবসায়ীরাও চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তবে স্থানীয় দুগ্ধ সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের দাবি, তাঁরা দুধ সংগ্রহ কমাননি। অবরোধের কারণে তাদের গাড়ীগুলো চলাচল করতে না পারায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিন জানা যায়, পাবনার বেড়া, সাঁথিয়া, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া এবং সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুর ও উল্লাপাড়া উপজেলা নিয়ে গড়ে ওঠা দেশের প্রধান দুগ্ধ উৎপাদনকারী অঞ্চলের লক্ষাধিক খামারির আয়ের একমাত্র উৎস তাঁদের খামারে উৎপাদিত দুধ। প্রচুর দুধ উৎপাদিত হওয়ায় এ অঞ্চল থেকে মিল্ক ভিটা, আড়ং দুধ, প্রাণ, ফার্মফ্রেস, অ্যামোমিল্ক, আফতাব, রংপুর ডেইরিসহ কয়েকটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান তরল দুধ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করে সারা দেশে খোলা বাজারে বিক্রি করে থাকে। ব্যাপক চাহিদার কারণে সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আগে রীতিমত প্রতিযোগিতামূলকভাবে খামারিদের কাছ দুধ সংগ্রহ করত। কিন্তু গত ৩১ ডিসেম্বর ও ১ জানুয়ারি হরতাল এবং ৪ জানুয়ারি থেকে টানা অবরোধের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো দুধ সংগ্রহ বন্ধ করে দিয়েছে।
গত রোববার সকালে প্রাণ দুধের বেড়া সংগ্রহ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, খামারি ও দুধ ব্যবসায়ীরা ক্যান (৪০ লিটারের দুধের পাত্র) বোঝাই দুধ নিয়ে অপেক্ষা করছেন। তাঁরা জানান, কোনোরকম ঘোষণা ছাড়াই তারা দুই সপ্তাহ ধরে দুধ নেওয়া বন্ধ রেখেছে। প্রায় ৪ মণ দুধ নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকা সাঁথিয়ার সোনাতলা গ্রামের নিত্যগোপাল ঘোষ জানান, শনিবারে ১৬ জানুয়ারি তিনি এই কেন্দ্রে দুধ দিতে না পেরে বাজারে নিয়ে ১০ থেকে ১২ টাকা লিটার দরে দুধ বিক্রি করেছেন। বাকি দুধ থেকে শুধু ক্রীম তুলে নিয়ে সেই দুধ ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, পৌণে এক মাসে আমার প্রায় ৩০ হাজার টাকা লস। এরম (এমন) চলতি থাকলি আমাগরে ঘরবাড়ি বেইচ্যা পথে বসা লাগবি।’
প্রাণ দুধের বেড়া সংগ্রহ ও শীতলীকরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই কেন্দ্রে প্রতিদিন গড়ে আমরা ৫০ হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ কের থাকি। কিন্তু অবরোধের কারণে গাড়ী চলাচল করতে না পারায় তা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া মিল্ক ভিটাও দুধ কেনা কমিয়ে দেওয়ায় সেখানকার অনেক দুধ আমাদের এখানে আসছে বলে এমন অবস্থা দেখা দিয়েছে।’ আড়ং দুধের বেড়া সংগ্রহ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় সেখানে দুধ সংগ্রহ বন্ধ রয়েছে। আড়ং দুধের এলাকা ব্যবস্থাপক অরবিন্দ রুদ্র বলেন, ‘যানবাহনজনিত সমস্যার কারণে আমরা বেড়া কেন্দ্রে দুধ সংগ্রহ বন্ধ রেখেছি।
গত রোববার সাঁিথয়ার সোনাতলা গ্রামে গিয়ে খামারিদের হাহুতাশ লক্ষ্য করা গেছে। খামারিরা জানান, এই এলাকার খামারিরা সমিতির মাধ্যমে সরকারি দুগ্ধ সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটায় দুধ সরবরাহ করে থাকেন। কিন্তু মিল্ক ভিটা প্রতি সপ্তাহেই একাধিক দিন দুধ সংগ্রহ বন্ধ রাখছে।
চরাচিথুলিয়া পূর্বপাড়া প্রাথমিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপক মোবারক হোসেন বলেন, ‘মিল্ক ভিটা গত ৭ দিন ধরে মিল্কভিটা দুধ নেয় নাই। ফলে বাজারে সেই দুধ আমরা ১০ থেকে ১২ টাকা লিটার দামে বেচতে বাধ্য হইছি।
মিল্ক ভিটার উপ-মহাব্যবস্থাপক ড. খন্দকার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দুধ সংগ্রহ বন্ধ রাখার বিষয়টি ঠিক নয়। গত কয়েকদিন বিভিন্ন কারণে দুধ সংগ্রহ বন্ধ রেখেছিলাম। এখন সেই অবস্থা উত্তরণের চেষ্টা চলছে।
তথ্য সুত্রঃ সময়ের কণ্ঠস্বর

0 comments:
Post a Comment