এমন ধরনের ভাবনা থেকেই MIT-র একদল গবেষক মিলে তৈরী করলেন চিতা রোবট (Robotic Cheetah)। প্রকৃতির সবচাইতে দ্রুতগতিসম্পন্ন প্রাণী চিতা, তেমনিভাবে আবিষ্কৃত এই চিতা রোবটও অন্য চার পায়ে চলা রোবটগুলোর ভিতর সবচেয়ে দ্রুতগামী। এই রোবটের আকার আকৃতি ও সাজসজ্জাও অনেকটাই সত্যিকারের চিতার মত!
গবেষকগণ এই রোবটটি তৈরী করতে গিয়ে প্রথমে কুকুর ও বিড়ালের চলাচল পর্যবেক্ষণ করেন। তারা লক্ষ্য করেন কুকুর বা বিড়ালের চলাচলের সময় এদের গতিপথে যদি কোনো প্রতিবন্ধকতা পড়ে তাহলে এরা কীভাবে ঐ প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে এবং এই প্রতিবন্ধকতা অতিক্রমের সময়টুকুতে এদের দেহের কোন কোন গাঠনিক পরিবর্তনগুলি হয়। এদের দেহের এসব পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করে গবেষকগণ প্রতিবন্ধকতা অতিক্রমের একটি অ্যালগরিদম তৈরী করেন। রোবটটি যখন লাফ দিবে তখন সামনের পা এবং পেছনের পায়ে কী পরিমাণ বল প্রয়োগ করতে হবে, রোবটটি কতটা সময় মাটিতে থাকবে এবং কতটা সময় বাতাসে ভাসবে এসব বিষয়গুলো অ্যালগরিদমের মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়েছে এবং এটি গণনা করতে জীববিজ্ঞান ও বলবিদ্যার সূত্রগুলো একসাথে ব্যবহৃত হয়েছে।
চিতা রোবটির উচ্চতা প্রায় ৩ ফুট এবং দৈর্ঘ্যও ৩ ফুট। এর গতি ঘন্টায় প্রায় ১০ কিলোমিটার যা অন্যান্য চারপেয়ে রোবট থেকে প্রায় ২০ গুণ দ্রুত। এটি প্রতি পদক্ষেপে ১ ফুটের বেশী দূরত্ব অতিক্রম করতে এবং ১ ফুট উচ্চতার যেকোনো প্রতিবন্ধক সহজেই অতিক্রম করতে পারে। গবেষকরা অবশ্য দাবী করেছেন রোবটটি এর ক্ষমতার মাত্র ৪০ ভাগ ব্যবহার করে, তাই একে আরও উন্নত করা সম্ভব। এর স্থায়ীত্ব বৃদ্ধির জন্য গবেষকরা একে ধীরে ধীরে উন্নত করার চেষ্টা করছেন। এর ক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার করা হলে রোবটটিকে ঘন্টায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন করা সম্ভব।
গবেষকদের মধ্যে একজন বলেন এই রোবটটি অন্যান্য যে কোনো রোবটের চেয়ে অনেক হালকা এবং শব্দ উৎপন্ন হওয়ার পরিমাণও অনেক কম। এতে মাত্র একটি ইলেট্রিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে এবং বাইরে থেকে কোনো শক্তি সংগ্রহ বা যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
এই রোবট আবিষ্কারের মাধ্যমে যেকোনো জায়গায় রোবট ব্যবহারের সম্ভাবনা আরও উন্মুক্ত হলো এটি সন্দেহাতীতভাবেই বলা যায়। সায়েন্স ফিকশনের ভবিষ্যতের পৃথিবীতে মানুষের দৈনন্দিন কাজের সহচর হিসেবে আমরা রোবট ব্যবহারের যে প্রাচুর্য দেখতে পাই সেই যুগে আমরা হয়তো খুব দ্রুতই প্রবেশ করতে যাচ্ছি!
0 comments:
Post a Comment